প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও অর্থ উত্তোলনে অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।
ব্যাংকটির অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই অভিযোগে ব্যবসায়ী এস আলমের নামও রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঋণ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। অভিযোগের নথি অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী দুদকে অভিযোগটি দাখিল করেন। একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগটি ২৯ জুলাই দাখিল করা হয়।
ইসলামী ব্যাংকের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। আগে প্রতিষ্ঠানটির ঋণসীমা ছিল ১০০ কোটি টাকা। পরে তা বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঋণসীমা বাড়ানোর পর ওই ঋণের বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’কে অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ঋণ অনুমোদনে ব্যবসায়ী এস আলম প্রভাব বিস্তার ও সহযোগিতা করেন।
ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. সাহাবুদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে ইসলামী ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকটির সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি, ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক জানিয়েছে, সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডকে দেওয়া ঋণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তদন্ত করা হয়েছে।
ব্যাংকের পক্ষ থেকে দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই নিরীক্ষা কার্যক্রমে ঋণ অনুমোদন, ঋণের অর্থ উত্তোলন এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতি শনাক্ত হয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com