একসময় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) দেশের নাগরিকদের কাছে রাজধানীর পরিকল্পিত উন্নয়ন ও আবাসন ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম, ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এরই মধ্যে রাজউকের পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়াকে ঘিরে দুর্নীতি, প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তার অধীনস্থ বিভিন্ন কার্যক্রমে ফাইল প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও নির্মাণসংক্রান্ত কাজে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সুবিধা নিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।
সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে থাকা রাজউকের মহাখালী জোনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নির্মাণসংক্রান্ত বিভিন্ন অনুমোদন ও ফাইলের কার্যক্রমে অযথা বিলম্ব সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফাইল আটকে রাখা, পরিদর্শন ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনের চাপ তৈরি করা হয়। এসব কর্মকাণ্ড পরিচালকের জ্ঞাতসারে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে দায়ী করা যায় না। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।
রাজউকের সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনায় মো. সোলাইমান হোসেনের বিরুদ্ধে ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে এক সংবাদকর্মীর ওপর প্রকাশ্যে হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার প্রমাণ থাকার দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনার পর পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে তা আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে পরিচালকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটির পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। ফলে এ ঘটনায় রাজউকের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। অভিজাত ক্লাব, লাউঞ্জ ও অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রে তার যাতায়াত নিয়ে নানা দাবি করা হলেও এসব তথ্যের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া না গেলে সেগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
তবে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের মতো অভিযোগ ওঠে, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
রাজউকের মতো রাজধানী উন্নয়ন ও নগর ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া ও রাজউক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com