আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, বদলি বাণিজ্য, কমিশন গ্রহণ এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন তিনি।
অভিযোগকারীদের দাবি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্বার্থের সংঘাতের বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
২৪তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বর্তমানে আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের দুটি সদস্য পদ এবং ১৪টি জেলায় আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বও পালন করছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব দায়িত্বের কারণে বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার, ক্রয়প্রক্রিয়া ও বাজেট অনুমোদনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, কয়েকটি প্রকল্পে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কমিশন গ্রহণ, সীমিত দরপত্র (RFQ) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া আইসিটি বিভাগের কয়েকটি প্রকল্পে অফিস কক্ষ সংস্কার ও সাজসজ্জার ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জনতা টাওয়ার সংস্কার প্রকল্পে কারিগরি যোগ্যতার পরিবর্তে অন্য বিবেচনায় ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তা, সঞ্চালক বা প্রশিক্ষক হিসেবে সম্মানী গ্রহণ, প্রকল্প ব্যয়ে অনিয়ম, বদলির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন এবং বিনিয়োগ–সংক্রান্ত ফাইল নিষ্পত্তিতে ঘুষ গ্রহণের ঘটনাও ঘটেছে।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সদস্য (বিনিয়োগ) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কিছু বিনিয়োগকারীর ফাইল নিষ্পত্তি এবং জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
এ ছাড়া তাঁর একটি বিদেশ সফরের সরকারি আদেশ প্রকাশে বিলম্ব করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের নজর এড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, “আমার অফিসে আসেন অথবা সচিব মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেন। আমার সম্পর্কে সব তথ্য জানতে পারবেন। আমি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।”
এ পর্যন্ত উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। তাঁদের মতে, প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান করা উচিত।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com