আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে সৈয়দ মনসুর মোস্তফার নিয়োগকে ঘিরে দেশের ব্যাংকিং খাতে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, শেয়ারবাজার ও ব্যাংকিং খাত থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। তবে একই মামলার অপর দুই আলোচিত আসামি সালমান এফ রহমান ও সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
বর্তমানে আইএফআইসি ব্যাংকের ৩২ দশমিক ৭৫ শতাংশ শেয়ার সরকারের মালিকানায় রয়েছে। অবশিষ্ট শেয়ার পরিচালক, উদ্যোক্তা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। এমন পরিস্থিতিতে দুদকের মামলার একজন আসামিকে ব্যাংকের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাংকটির আমানতকারীদের নিরাপত্তা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, গাজীপুরের শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৭ কোটি টাকার সম্পদ মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২০ কোটি টাকা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এরপর ‘আইএফআইসি আমার বন্ড’ নামে একটি বিনিয়োগ পণ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ এফডিআর হিসেবে সংরক্ষণ করা হলেও বাকি অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনাকালে সৈয়দ মনসুর মোস্তফা আইএফআইসি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) ও চিফ ক্রেডিট অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। দুদকের মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ঋণ অনুমোদন ও ছাড় প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে তিনি সংশ্লিষ্ট অনিয়মে ভূমিকা রেখেছেন।
দুদকের মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(ক) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৪ ধারায়ও মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ২ জুন সৈয়দ মনসুর মোস্তফাকে আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগের পর থেকেই অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহলের দাবি, গুরুতর আর্থিক অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে ব্যাংকের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, একটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে যদি গুরুতর দুর্নীতি ও আর্থিক জালিয়াতির মামলা বিচারাধীন থাকে, তাহলে তা আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থার সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, আইএফআইসি ব্যাংকের বর্তমান এমডি সৈয়দ মনসুর মোস্তফাসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তা, বিএসইসির সাবেক কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com