ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারের অধীন নবাবগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে সাধারণ দলিল লেখক, দাতা-গ্রহীতা ও সেবাপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
একাধিক সূত্রের দাবি, নবাবগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিলের ধরন ও মূল্য অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে ঘুষ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে সেবা পেতে বিলম্ব হয়। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, অফিসে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যা বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মো. নাজমুল হাসান অতীতেও বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ ওঠে। সে সময় আইন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেন। এভাবে তিনি অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রভাব তৈরি করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘাটাইলে দায়িত্ব পালনকালে কয়েকটি দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগকারীরা কয়েকটি নির্দিষ্ট দলিল ও রশিদ নম্বর উল্লেখ করে দাবি করেছেন, এসব নিবন্ধনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে নাজমুল হাসানের সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, একজন সাব-রেজিস্ট্রারের সরকারি বেতন-ভাতার তুলনায় তাঁর জীবনযাত্রা ও সম্পদের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২৯তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা হিসেবে প্রায় ১৪ বছরের চাকরি জীবনে একজন সাব-রেজিস্ট্রারের বৈধ বেতন-ভাতা, টিএ/ডিএসহ মোট সরকারি আয় আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকার মধ্যে হওয়ার কথা। অথচ অভিযোগ রয়েছে, এই সময়ের মধ্যেই নাজমুল হাসান কোটি কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া তাঁর গ্রামের বাড়ি হলেও বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার ধানমন্ডিতে একটি নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। সন্তানরা নামী ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে এবং তিনি একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন। এছাড়া তাঁর নামে এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জ জেলায় তাঁর নিজের নামে, স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য আত্মীয়দের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ও সম্পদ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্বশুরবাড়ি এলাকায় প্রায় তিন একর জমিতে একটি মাছের ঘের রয়েছে। এছাড়া স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নামে আরও কয়েক একর জমি, মানিকগঞ্জ সরকারি কলেজসংলগ্ন একটি ভবনের নবম তলায় একটি ফ্ল্যাট এবং একই এলাকায় নির্মাণাধীন আরেকটি ভবনে একটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং সেগুলো বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা এখনো কোনো সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী, দলিল লেখক এবং স্থানীয়দের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ, অনিয়ম, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তাঁদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com