জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, তথ্য পাচার, বদলি বাণিজ্য এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিষদের ভেতরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাইফুল ইসলামের সময় পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার পরও ওই বলয়ের প্রভাব বজায় রয়েছে এবং বর্তমানে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সেই প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পরিষদের সাবেক ডেসপ্যাচ রাইডার আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি চাকরিতে থাকাকালে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার, বদলি বাণিজ্য, ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়ম এবং পরিষদের তথ্য বাইরে পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমনকি পিআরএলে (PRL) যাওয়ার পরও তাঁকে মৌখিকভাবে বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রকৌশলী নাসির উদ্দিনের সঙ্গে আবদুল মালেকের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং তাঁর মাধ্যমে পরিষদের বিভিন্ন গোপন তথ্য বাইরে পাচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্লাস্টিকের ফুল, ফুলের টব ক্রয় এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরি গ্রহণ, সরকারি সম্পদ চুরির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত এবং নারী-সংক্রান্ত অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। তবে পরবর্তীতে তিনি চাকরিতে বহাল থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে চেয়ারম্যানের দপ্তরের পিয়ন মো. শাহজাহান শেখ, সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দিন, উচ্চমান সহকারী এস এম ইদ্রিস আলী, সাইদুল ইসলাম, নয়ন, রাসেল, মাসুদুর রহমান, নিয়াজুল হাসান, সাজিয়া আফরিনসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এস এম ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা স্টেডিয়ামের পুরোনো মালামাল বিক্রির নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং ময়মনসিংহে তাঁর একটি ব্যয়বহুল বাড়ি নির্মাণাধীন রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এস এম ইদ্রিস আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরোনো মালামাল বিক্রির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ওই অর্থ তিনি নেননি; অন্য একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অর্থ গ্রহণ করেছেন। জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এসব বিষয় প্রশাসনের একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে দলীয় কর্মসূচির সময় কিছু অনুদান পাওয়া যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ময়মনসিংহে বাড়ি নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরোনো বাড়ি বিক্রি করে প্রায় দুই বছর আগে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
এদিকে পরিষদের মাঠ কর্মচারী গোলাম মোস্তফা সরকারের বিরুদ্ধেও ক্যান্টিন পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বল্পমূল্যে খাবার সরবরাহের পরিবর্তে নিম্নমানের খাবার উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। যদিও ক্যান্টিন পরিচালনায় পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যয় পরিষদ বহন করে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় এ অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরিষদের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com