ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-৫-এর একটি সরকারি টেন্ডারের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব এবং সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডারের সব শর্ত পূরণ করার পরও একটি যৌথ উদ্যোগ (জেভি) প্রতিষ্ঠানকে অযৌক্তিকভাবে ‘নন-রেসপনসিভ’ (অযোগ্য) ঘোষণা করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ‘Baset Prokousholi Limited–Versatile Technology Ltd JV’ নামের একটি যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠান ওই টেন্ডারে অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীর দাবি, টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমজাতীয় কাজের অভিজ্ঞতা (Similar Nature Work Experience), সমাপ্তি সনদ (Completion Certificate) এবং কাজের পরিধি (Scope of Work) সংক্রান্ত সব বৈধ কাগজপত্র যথাযথভাবে জমা দেওয়া হয়েছিল। টেন্ডার নথিতে নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের নাম নয়, বরং কাজের ধরন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, যৌথ প্রতিষ্ঠানটি এর আগে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম প্রকল্পে ইন্টারনাল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস, স্টেজ লাইটিং, সাউন্ড সিস্টেম, এলইডি ডিসপ্লে, এয়ার কন্ডিশনিং এবং অ্যাকোস্টিক ওয়ার্কসসহ জটিল প্রযুক্তিনির্ভর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তবে মূল্যায়ন কমিটি সেই অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় না নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অযোগ্য ঘোষণা করে এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে Notification of Award (NOA) জারির সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বঞ্চিত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাজ্জাদ হোসেন পলাশ গত ২৮ জুন ২০২৬ নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠান।
নোটিশে দাবি করা হয়, টেন্ডার মূল্যায়নের এই প্রক্রিয়া সরকারি ক্রয়বিধি (PPR)-এ নির্ধারিত স্বচ্ছতা, সমতা এবং উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার নীতির পরিপন্থী। নোটিশে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। এগুলো হলো— প্রতিষ্ঠানটিকে ‘নন-রেসপনসিভ’ ঘোষণার সুনির্দিষ্ট কারণ লিখিতভাবে জানানো, জমা দেওয়া অভিজ্ঞতার সনদ পুনরায় নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা এবং তড়িঘড়ি করে জারি করা এনওএ (NOA) পুনর্বিবেচনা করা।
একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বিষয়টি বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (BPPA) রিভিউ প্যানেল এবং উচ্চ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
আইনি নোটিশে কেবল বর্তমান টেন্ডার নয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত কয়েকটি উচ্চমূল্যের প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, শাহবাগ বিসিএস প্রশাসন একাডেমি প্রকল্পে (টেন্ডার আইডি-১১০৯৩০১) প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা, কাকরাইল বিএমইটি ভবন প্রকল্পে (টেন্ডার আইডি-১০৮১৮১০) প্রায় ৮৯ লাখ ৩৬ হাজার ৯০৩ টাকা এবং জিএসবি ভবন প্রকল্পে (টেন্ডার আইডি-১০৭২১৪৫৮) প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দরপত্র মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ প্রদানে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এসব প্রকল্পে লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড (LTM)-এর অপব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রে মাত্র একটি সিডিউল বিক্রি এবং একটি মাত্র দরপত্র গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের প্রক্রিয়া সরকারি ক্রয়ের প্রতিযোগিতামূলক ও উন্মুক্ত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আইনগত দায়িত্ব। তাদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবিচার নয়, বরং সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করবে।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com