গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর ও ট্যাক্সের নামে শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে হাজীপুর বালুমহাল থেকে বালু পরিবহনের সময় একাধিক স্থানে নৌযান আটকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজীপুর বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের পর নির্ধারিত লোড পয়েন্টে ইউনিয়ন বা ইঞ্জিন ট্যাক্স পরিশোধ করা হলেও অল্প দূর এগিয়ে গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়নের আমবাড়ি এলাকায় নৌযান থামিয়ে শ্রমিকদের জিম্মি করে প্রতি ঘনফুট বালুর বিপরীতে অতিরিক্ত এক টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মেসার্স লাকি এন্টারপ্রাইজ-এর নামে এই অর্থ আদায় করা হলেও এর নেতৃত্বে রয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক মদরিছ আলী এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দেলোয়ার হোসেন। একই সঙ্গে বিআইডব্লিউ নামে আরেকটি রসিদ ব্যবহার করে নৌ-শ্রমিক নেতা হিসেবে পরিচিত আলিম উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন আরেকটি গ্রুপও অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো কার্যক্রমের নেপথ্যে রয়েছেন নজরুল ইসলাম স্বপন নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে আইনজীবীর সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, অতীতেও তিনি একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বালুমহাল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলা এবং গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ইউনিয়ন পরিষদের ইজারা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উপজেলা ছাত্রদলের নেতা শাহনুর আহমদ রবিন সদর ইউনিয়নে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। একইভাবে গোয়াইনঘাট রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সাদিকুর রহমান ইউনিয়ন ট্যাক্সের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সদর ইউনিয়নের হোয়াউরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, ইজারাদারের নিয়োজিত লোকজন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছেন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাংবাদিক নোমান আহমদও ইউনিয়নের নামে অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ করে ইউনিয়নের ভাবমূর্তি রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ১২ নম্বর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী সুমন বলেন, “পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের বৈধ রসিদ থাকার পরও যদি কেউ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে, তাহলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ইজারাও বাতিল করা হতে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সদর ইউনিয়নের ইজারাদার মদরিছ আলীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো ভুক্তভোগী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটিও যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com