গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (জিসিসি) একটি ডাস্টবিন নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে উঠেছে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ। সর্বনিম্ন বৈধ দরদাতাকে বাদ দিয়ে বেশি দর প্রস্তাবকারী একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের পাশাপাশি পুরো দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, জিসিসির ৫ নম্বর জোন এলাকায় ডাস্টবিন নির্মাণের জন্য ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডার আইডি-১২৬৬৩৩৭। গত ২৪ মে অনুষ্ঠিত ই-জিপি ভিত্তিক উন্মুক্ত দরপত্রে মোট আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
দরপত্র মূল্যায়নে দেখা যায়, সর্বনিম্ন দর দেয় সানফাই কনস্ট্রাকশন। তবে তাদের দর নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড লোয়ার থ্রেশহোল্ড (এসএলটি) সীমার নিচে থাকায় নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে নন-রেসপনসিভ ঘোষণা করা হয়। একইভাবে অতিরিক্ত বেশি দর দেওয়ায় বাদ পড়ে এম নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজও।
এরপর বাকি থাকা ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে বৈধ দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল শাহরিশ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির দর ছিল ২ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ২৭৯ টাকা। সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানটির কাজ পাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সব নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে গত ৮ জুন ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা মেসার্স আব্দুর রহমান শাহ এন্টারপ্রাইজের নামে কার্যাদেশ অনুমোদন করা হয়। অথচ এই প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত দর ছিল শাহরিশ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়ে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৯৪ টাকা বেশি।
প্রশ্ন উঠেছে, বৈধ সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে কেন বেশি দরদাতাকে কাজ দেওয়া হলো?
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, চট্টগ্রামভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুর রহমান শাহ এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে কর্মরত থাকাকালেও তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটিয়েছিলেন। সেই পুরোনো সম্পর্কের জের ধরেই এবার গাজীপুরেও প্রতিষ্ঠানটিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সুদীপ বসাকের অতীত কর্মজীবন। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অতিরিক্ত বিল উত্তোলন এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০১৯ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানিতেও তাঁর নাম উঠে এসেছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনে যোগদানের পরও তাকে ঘিরে বিতর্ক থামেনি। অভিযোগ রয়েছে, মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়, প্রকল্পে অনিয়ম এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক। বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে তিনি বলেন, “অভিযোগ যে কেউ করতে পারেন। যা হয়েছে সব ই-জিপি এবং বিধি মেনেই হয়েছে।”
চট্টগ্রামে কর্মরত অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এসব বিষয়ে আমার জানা নেই।”
© Bangla Affairs 2025
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com