বেনাপোলে কোটি টাকার চুরিকৃত পণ্য চালানসহ কাস্টমস কর্মকর্তা আটক
সুমন হোসাইন,শার্শা(যশোর)ঃ যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গোডাউন থেকে চুরিকৃত কোটি টাকার কাসমেটিক্স চালানসহ কাস্টমস কর্মকর্তা আটক। রোববার (২১ জুন) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মেট্রো-ট ২৪-৫৬২১ নং ট্রাকসহ সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা শ্রী ইন্দ্রজিৎকে হাতে নাতে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সাথে এ ঘটনার জড়িত আরও ২ জনকে আটক করেছে বিজিবি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় বিজিবি চোরাচালান অভিযান পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জমা দেই বেনাপোল কাস্টমস বিজিবি গোডাউনে। নিলাম শাখা কর্তৃক এসব আটক পণ্য যাচাই বাছাই করে কাস্টমস নিলাম করে থাকে। কিন্তু দীর্ঘ মাস যাবৎ বেনাপোল কাস্টমস হাউসে আটক পণ্য চালানের নিলাম প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোডাউন থেকে ত্রান মন্ত্রাণালয়ের পণ্যের সাথে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে কোটি টাকার কসমেটিক্স পণ্য চালান বিক্রির জন্য বাহিরে বের করে গোডাউন কর্মকর্তা।
অভিযোগ রয়েছে, বেনাপোল কাস্টমস গোডাউনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সরাসরি পণ্য চুরি সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। গত ৪ (ডিসেম্বর-২৫) আরেক কাস্টমস গোডাউন কর্মকর্তা আরিফুর রহমান চৌধুরী কয়েক বস্তা কসমেটিক্স পণ্য ও প্রাইভেটকারসহ বিজিবির হাতে আটক হয়। তবে সে যাত্রায় কাস্টমসের উদ্ধর্ত্বন কর্মকর্তার মাধ্যমে ছাড় পেলেও কোন ব্যবস্থা নেইনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। একই সাথে আটক পণ্যের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা কাস্টমসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও নজরদারির অভাবে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বেনাপোল কাস্টমসের গোডাউন থেকে ত্রাণের পণ্য চালানের সাথে অন্যান্য পণ্য চালান চুরি হতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থা মরফত তথ্য দিয়ে ছিলো। তারপরও কাস্টমস গেট ডিভিশন ও গোডাউনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তদারকি ছাড়াই কিভাবে কাস্টমস থেকে পণ্য চালান গাড়ি লোড হয়ে বাহিরে চলে গেলো ? এই চক্রের সাথে উদ্ধর্ত্বন কর্মকর্তা জড়িত ? তাদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আটক পণ্য চালান চুরির বিষয়ে শার্শা উপজেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান লিটু জানান, বেনাপোল সীমান্তে দায়িত্বরত বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অত্যান্ত দক্ষতার সাথে চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য আটক করে কাস্টমসে জমা করে। আর এই পণ্য যদি কাস্টমস কর্মকর্তার মাধ্যমে চুরি হয়ে যায় ‘খুবই দুঃখ জনক’। এর আগেও কাস্টম কর্মকর্তাদের দায়িত্বের অবহেলার কারনে কাস্টমস ভল্ট থেকে স্বর্ন ও ডলার চুরি হয়েছে। আটক রাজস্ব কর্মকর্তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ আটক পণ্য চালানের সাথে আরও যারা জড়িত আছে সকলকে আইনের আওতার আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে বন্দর ও কাস্টমসের কয়েকটি ঘটনায় পণ্য চালান চুরি শুল্ক ফাঁকি রোধে কাস্টমস গেট ও বন্দরের গেটে বিজিবি বা কোস্টগার্ড বসানোর দাবি জানাচ্ছি।
সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এনবিআর এর হস্তক্ষেপসহ টোটাল কাস্টমসের ভেতরে সিসিটিভি নজরদারি, নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদারসহ অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন জরুরী। তা না হলে বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমসের ভঙ্গুর নিরাপত্তার চিত্র রাজস্ব আদায়ে হুমকির দিকে এগিয়ে যাবে।
স্থানীয় আমদানিকারক মেহেদী জানান, কাস্টমস বিজিবি গোডাউন সাইডে পণ্য চুরির এটা নতুন কি? সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোডাউন থেকে পণ্য চুরি হয়ে থাকে। তবে
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত পণ্য চালানের হিসাব নিরূপণ ও মূল্য নির্ধারণের কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। সম্পূন্য প্রক্রিয়া শেষে প্রেসব্রিফিং দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কাস্টমসের কমিশনার ও যুগ্ন-কমিশনারকে একাধিকবার কল করলেও তারা ফোন রিসিভ করেনি।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com