
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) এম আবদুল ওয়াদুদকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়া কিছু নথিতে দাবি করা হয়েছে, সচিব পদে পদোন্নতির লক্ষ্যে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আবদুল ওয়াদুদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় অথবা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা বা চুক্তিতে যুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের হাতে থাকা একটি কথিত সম্মতিপত্রে দেখা যায়, প্রায় ৩৩ কোটি টাকার অর্থায়নের বিষয়ে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। নথিতে উল্লেখ রয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষে সুদসহ মোট পরিশোধযোগ্য অর্থের পরিমাণ ৮৬ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে এই অর্থ কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে তা পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে নথিতে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—একজন সরকারি কর্মকর্তার এত বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন কেন এবং এর উৎস বা ব্যবহার কী? একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, ওই চুক্তির গ্যারান্টি হিসেবে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি এবং পরিবারের সদস্যদের পরিচয়পত্রের কপিও সরবরাহ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, তাদের হাতে থাকা নথিপত্রের মধ্যে কথিত সম্মতিপত্র, ব্যাংক চেক এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি রয়েছে। এসব নথি বিভিন্ন ডিজিটাল যাচাই পদ্ধতি ও এআই-ভিত্তিক ডিপফেক শনাক্তকরণ সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন। তবে এসব পরীক্ষার ফলাফল বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মতামতের কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। কারণ অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সরকারি চাকরির নৈতিকতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় সুশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অতিরিক্ত সচিব এম আবদুল ওয়াদুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, আলোচিত নথিপত্রের সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তা স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com