
মাগুরা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী সঞ্জিত দত্তকে ঘিরে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বদলি বাণিজ্য এবং দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি এমন এক প্রভাববলয় গড়ে তুলেছেন, যা জেলার রেজিস্ট্রি কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব ফেলছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিতে ৯ হাজার ৩০০ টাকা স্কেলের বেতনভুক্ত কর্মচারী হলেও সঞ্জিত দত্ত বর্তমানে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন এবং তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের বিষয়ে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাগুরা শহরে তার মালিকানাধীন বহুতল বাড়িসহ উল্লেখযোগ্য সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখরের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে আলোচনায় আসেন সঞ্জিত দত্ত। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তার করেন।
দলিল লেখক, সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে তার অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাদের দাবি, বদলি, পদায়ন এবং অফিস পরিচালনার নানা বিষয়ে তার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, মাগুরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নির্ধারিত বদলি কার্যকর না হওয়ার পেছনেও সঞ্জিত দত্তের প্রভাব কাজ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, বদলি ঠেকাতে এবং নির্দিষ্ট কর্মস্থলে পদায়ন বজায় রাখতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থানের সুযোগে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে পারে, যা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে সঞ্জিত দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অফিস সহকারী সঞ্জিত দত্ত এবং মাগুরা জেলা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সেবাগ্রহীতা ও সচেতন মহলের দাবি, সঞ্জিত দত্তের সম্পদের উৎস, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান, বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলো নিয়ে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হলে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com