কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এ কর্মরত দুই কর্মকর্তা এবং এক বহিরাগত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সেবাগ্রহীতাদের দাবি, এই চক্রের প্রভাবের কারণে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন— কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের উচ্চমান সহকারী ও বর্তমানে কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) টুটুল সরকার, কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল্লাহ আল যুবায়ের এবং বহিরাগত ব্যক্তি মো. আজগর আলী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী টুটুল সরকারের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও নির্দেশনায় একটি অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বন্ড-সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল যুবায়ের বর্তমানে বন্ড সার্কেল ৩০-৩১ এবং জনপ্রশাসন শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এই দুটি সার্কেলের আওতায় দেশের প্রায় ৩০৬টি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের বন্ড-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির অভিযোগ, বিভিন্ন ফাইল ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিষয়ে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সরাসরি সেবা না দিয়ে বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এরপর ফাইলের ধরন ও গুরুত্ব অনুযায়ী অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হলে ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, অন্যথায় অযৌক্তিক বিলম্ব, অতিরিক্ত কাগজপত্রের চাহিদা কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, টুটুল সরকারের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তার দাবি, এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থায় অনুসন্ধান হলেও কার্যকর পরিবর্তন দেখা যায়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, একজন উচ্চমান সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও টুটুল সরকারের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। কেরানীগঞ্জে বহুতল ভবন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা এবং প্রশাসনিক পদায়নকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
তবে এসব সম্পদের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, চলতি বছরের ১৩ মে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ‘রাফায়েত ফেব্রিক্স’ এবং ‘এস ইসলাম হোম অ্যান্ড ফ্যাশন লিমিটেড’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের রাজস্বসংক্রান্ত অনিয়ম ও জালিয়াতির বিষয় উঠে আসে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওইসব প্রতিষ্ঠানের ফাইল প্রক্রিয়াকরণ ও রাজস্বসংক্রান্ত কার্যক্রমে এই সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতা ছিল এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।
কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী এবং সেবাগ্রহীতাদের একটি অংশ অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে এবং প্রতিষ্ঠানটিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বন্ড কমিশনারেটের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com