
ঢাকা কাস্টমস হাউসে দাখিল করা একটি আমদানিকৃত পণ্যের চালানের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট আনার অভিযোগ উঠেছে। ‘নাজমুল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈধ পণ্যের ঘোষণার আড়ালে প্রায় ৫০০ কার্টন সিগারেট আমদানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় কাস্টমসের এক রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য পাওয়ার পরও ব্যবস্থা না নিয়ে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে চালান খালাসে সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ জুলাই সি-১৩৬৭৫৩২ (C-1367532) নম্বর বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে একটি আমদানিকৃত পণ্যের চালান ঢাকা কাস্টমস হাউসে দাখিল করা হয়। নথিপত্রে চালানটিতে ১ হাজার ২ কার্টন ম্যাসাজার, মিনি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, নাইফ, স্প্রেয়ার নজল, রেঞ্চ, হেয়ার স্ট্রেইটনার, নেইল কাটার, আইব্রো ক্লিপ, কাঁচি, কি-রিং, প্লাস্টিক ও গ্লাস বিডস আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘোষিত পণ্যের আড়ালে আরও প্রায় ৫০০ কার্টন সিগারেট দেশে আনা হয়, যা কাস্টমস ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, চালানটি কাস্টমস সিস্টেমে জমা দেওয়ার পরপরই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) আসাদুজ্জামানের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে বিষয়টি কাস্টমস হাউসের কমিশনার জাকির হোসেনেরও নজরে আনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, কাস্টমসের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে এমন তথ্য পাওয়ার পর চালানটি কায়িক পরীক্ষা (ফিজিক্যাল ইনস্পেকশন) বা বিশেষ নজরদারির আওতায় আনার সুযোগ ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, চালানটি আটক না হওয়ার পেছনে আর্থিক লেনদেনের বিষয় জড়িত থাকতে পারে। অভিযোগকারীদের দাবি, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে চালান খালাসে সহায়তা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে এবং কাস্টমস ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও আলোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তাদের দাবি, তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পরও কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাস্টমস হাউসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো বর্তমানে অভিযোগকারী সূত্রের দাবি ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায় নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com