
বরিশাল কর অঞ্চলের কর কমিশনারের কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর সানজিদা শারমিন (লাভলী)-এর বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে সীমিত বেতনভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তার জীবনযাপন, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং ব্যয়বহুল জীবনধারা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সানজিদা শারমিন ব্যক্তিগত একটি আধুনিক মডেলের গাড়িতে নিয়মিত অফিসে যাতায়াত করেন। এছাড়া তিনি চালক নিয়োগ, ব্যক্তিগত জীবনযাপন এবং অন্যান্য খাতে উল্লেখযোগ্য ব্যয় করে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বরিশাল নগরের অভিজাত এলাকায় তার নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে জমি, ব্যাংক আমানত, এফডিআর এবং সঞ্চয়পত্র থাকার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ এবং বৈধ উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কর বিভাগের একাধিক সূত্রের দাবি, দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন করদাতার ফাইল ব্যবস্থাপনা, নথি প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তিনি অনৈতিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সহকর্মীদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর পক্ষে স্বাভাবিক আয়ে এ ধরনের সম্পদ গড়ে তোলা প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাদের মতে, বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সানজিদা শারমিন বলেন, “গাড়ি কিনেছি এবং আমার একটি ফ্ল্যাট আছে, এটি সত্য। তবে আমার বিরুদ্ধে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ সঠিক নয়।”
তবে সম্পদ অর্জনের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পদ যদি তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “কোনো সরকারি চাকরিজীবীর সম্পদ যদি তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সানজিদা শারমিনের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানই প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে পারে।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে কর বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধান ও প্রমাণের ওপর।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com