
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের সাসেক-২ ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পকে ঘিরে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা বিতরণে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ভূমি মালিকদের দাবি, বছরের পর বছর ঘুরেও তারা ক্ষতিপূরণের অর্থ পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঘুষ ছাড়া ফাইল নিষ্পত্তি করছেন না এবং নানা অজুহাতে ক্ষতিপূরণের চেক আটকে রাখা হচ্ছে।
প্রায় ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন দেশের অন্যতম আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন এই ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। তবে যেসব জমির ওপর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেই জমির মালিকদের একটি অংশ এখনও ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার সুযোগ নিয়ে এক ধরনের অনিয়মের পরিবেশ তৈরি করেছেন। তাদের দাবি, নির্ধারিত অর্থ না দিলে ফাইল বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে এবং ক্ষতিপূরণের চেক পেতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে।
রাধানগর মৌজার বাসিন্দা সহির উদ্দিন অভিযোগ করেন, সাসেক-২ প্রকল্পের জন্য তার প্রায় সাড়ে ২৮ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০২০ সাল থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার জন্য তিনি ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় নিয়মিত যোগাযোগ করলেও দীর্ঘদিন কোনো অগ্রগতি হয়নি। তার দাবি, তিন বছর পর সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা তার কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। পরে অর্থ দেওয়ার পরও ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি। বরং পরবর্তীতে তাকে জানানো হয়, অধিগ্রহণের তালিকায় তার জমির তথ্য নেই। পরে অতিরিক্ত অর্থ দিলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুধু সহির উদ্দিন নন, আরও কয়েকজন ভূমি মালিক একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, ক্ষতিপূরণের টাকা তুলতে গিয়ে অনেককে ৮ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ অনৈতিকভাবে দিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিরাজগঞ্জ ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো রকিবর রহমান রকিব। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নুর নাহার বেগম বলেন, ভূমি মালিকদের হয়রানি বা অনৈতিকভাবে অর্থ দাবির কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এরপরও কেউ দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ ইতোমধ্যে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ নিয়ে ওঠা অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ প্রকল্পটির ইতিবাচক অর্জনকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এখন ভুক্তভোগী ভূমি মালিকদের প্রত্যাশা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তারা দ্রুত তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাবেন।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com