
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার-সাইলো সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০ কোটি টাকার প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রকল্পসংক্রান্ত কোনো তথ্যফলকও স্থাপন করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সান্তাহার-সাইলো সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় ছিল। সড়কটি দিয়ে খাদ্যশস্য ও সার পরিবহনকারী ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে সান্দিড়া, দমদমা, প্রশাদখালী, কদমা, করজবাড়ীসহ আশপাশের প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষকে দীর্ঘদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।
এ পরিস্থিতিতে খাদ্য অধিদপ্তর সড়কটির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য ৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের কাজ পায় নওগাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড দেওয়ান মামুনুর রশিদ (জেভি)। চলতি বছরের ৩ মার্চ কাজ শুরু হয় এবং ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে কাজ শুরুর পরপরই স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সান্দিড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সড়কের প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণে নির্ধারিত গভীরতায় খনন না করে অল্প গভীরতায় কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরোনো ও নিম্নমানের ইট, মানহীন পাথর ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। এছাড়া আরসিসি ঢালাইয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পুরোনো কার্পেটিং অপসারণ ও যথাযথ রোলারিংয়ের পরিবর্তে অনেক স্থানে পুরোনো স্তরের ওপরই বালু ও ইট বিছিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রকল্প এলাকায় কোনো সাইনবোর্ড না থাকায় কাজের বিস্তারিত তথ্য ও প্রকল্পের শিডিউল সম্পর্কেও সাধারণ মানুষ অবগত হতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড দেওয়ান মামুনুর রশিদ (জেভি)-এর সাইড ইঞ্জিনিয়ার আবদুল কুদ্দুস বলেন, “নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সব উপকরণের ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করা হয়। এরপর সেগুলো কাজে ব্যবহার করা হয়। কোনো ইটের মান নিয়ে অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে তা সরিয়ে নেওয়া হবে। আমরা প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ীই কাজ করছি।”
এদিকে খাদ্য অধিদপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব এ টি এম কাউছার হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কাজের মান নিশ্চিত করতে সেখানে একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। ঢালাইয়ের সময়ও সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। আশা করছি, প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখেই সম্পন্ন হবে।”
স্থানীয়রা সড়কটির নির্মাণকাজে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন, যাতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com