
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫/২-এর ইমারত পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর ধানমন্ডির রিভারভিউ এলাকায় চলমান একাধিক ভবন নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন ভবন মালিকের দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। পরে সেই নোটিশ নিষ্পত্তি, অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন এবং প্রশাসনিক জটিলতা এড়িয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি নোটিশকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।
একাধিক ভবন মালিক জানান, রাজউক কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। কখনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে, আবার কখনও ভবন ভেঙে ফেলা বা অনুমোদন বাতিলের আশঙ্কা দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাগ্রহীতা বলেন, নির্মাণকাজে সামান্য ত্রুটি বা অসঙ্গতি দেখিয়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে বিষয়টি ‘সমাধান’ করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ভবন মালিকের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণেও গোপনে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অনিয়ম উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু রাজউকের আইন প্রয়োগের সক্ষমতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে না, বরং রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইমারত পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে রাজউক জোন-৫-এর অথরাইজড কর্মকর্তা মো. রকিবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি বলেন, “তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগীদের মতে, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ কেবল ব্যক্তিগত অনিয়মের বিষয় নয়; বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে নিয়ে এসেছে।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুর্নীতির সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীতে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হলে রাজউকের মতো প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের ভাষ্য, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি আরও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com