
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা প্রায় অর্ধশত গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের দুই স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে। সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে গাছগুলো গোপনে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি সাফায়াত আলী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা বিপ্লব মিয়া এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। কাটা গাছগুলো ইউনিয়নের তিনতলা হাট ঈদগাহ মাঠে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাছ বিক্রির জন্য এক কাঠ ব্যবসায়ীর সঙ্গে দরদাম চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং অগ্রিম ১০ হাজার টাকা নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। তুষার নামের এক কাঠ ব্যবসায়ী অগ্রিম অর্থ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনতলা হাট থেকে লতিবপুর গ্রামের সঙ্গে সংযুক্ত কাঁচা সড়কের দুই পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ইউক্যালিপটাস গাছ লাগানো হয়েছিল। সম্প্রতি ঝড়ে কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়ার পর সেগুলো অপসারণের অজুহাতে আরও প্রায় ৫০টি গাছ কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পাশের তুলনামূলক বড় ও পরিণত গাছগুলোই কাটা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সামাজিক বনায়ন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন, টেন্ডার বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া গাছ রোপণকারী সমিতির নাম কিংবা সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পরিচয়ও স্পষ্ট নয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলেও অভিযুক্তদের প্রভাবের কারণে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
লতিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, রাস্তার গাছ কাটার জন্য নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া রয়েছে। যথাযথ অনুমোদন ও টেন্ডার ছাড়া গাছ কাটার সুযোগ নেই। জামায়াতের পরিচয়ে কেউ অন্যায় করলে তা সমর্থন করা হবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য জানান, গাছ কাটার বিষয়ে তিনি অনুমতির বিষয়টি জানতে চাইলেও সংশ্লিষ্টরা তা গুরুত্ব দেননি। বরং তারা দাবি করেন, যারা গাছ লাগিয়েছে তারাই গাছ কাটার অধিকার রাখে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাফায়াত আলীর বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কেবল ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ কাটার কথা স্বীকার করেন। তবে অন্যান্য গাছ কাটার অভিযোগ এবং কাঠ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা বিপ্লব মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশিক জামান বলেন, সরকারি সড়কের গাছ নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ ছাড়া কাটার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com