
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জান সেলুকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজ বাসা থেকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয় তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সেলিমুজ্জান সেলু। ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। এলাকাবাসীর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিয়মিত বেতন উত্তোলন করেছেন। তাঁর বড় ভাই শাহ আলম তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন সেলিমুজ্জান সেলু। ২০০৩ সালে উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক, ২০০৯ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৪ সালের পর থেকে তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে সেলু সভাপতি নির্বাচিত হন। ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তীতে কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং নির্বাচন ছাড়াই তিনি এক বছর আট মাসের বেশি সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে সেলিমুজ্জান সেলু একযোগে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত আচরণবিধি অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রত্যক্ষভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের পদে থাকতে বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন না। বিধিমালায় উল্লেখ রয়েছে, কোনো প্রধান শিক্ষক সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, বিশেষ অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছাড়া সেলিমুজ্জান সেলুকে বিদ্যালয়ে দেখা যায় না। অধিকাংশ দাপ্তরিক কার্যক্রম তিনি বাসা থেকেই পরিচালনা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, “সেলিমুজ্জান সেলু আগের সরকার এবং বর্তমান সরকারের সময়েও প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদের ছুটির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একাডেমিক সুপারভাইজারকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, “কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি রাজনৈতিক দলের নেতাও হন, তবুও তাঁকে নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার দায় দল নেবে না।”
এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির অ্যাডহক কমিটি গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনটির জেলা শাখার একাংশের সভাপতি আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, “ভূঞাপুরের অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে আমাদের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।”
জেলা শাখার আরেক অংশের সভাপতি শামিম আল মামুন জুয়েল বলেন, “প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরে নির্বাচন না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে কেন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ।”
অভিযোগের বিষয়ে সেলিমুজ্জান সেলু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” শিক্ষক সমিতির কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার পরামর্শ দেন।
টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com