
জাল সনদের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ এবং ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার সাবেক যুবলীগ নেতা ও সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার বেলাল উদ্দিন আকন্দের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি চাকরির সুযোগ কাজে লাগিয়ে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বেলাল উদ্দিন আকন্দ দীর্ঘদিন সাব-রেজিস্ট্রার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ‘মুজিবনগর কর্মচারী’ পরিচয়ের একটি সনদের ভিত্তিতে চাকরিতে প্রবেশ করেন। তবে তার জন্মসনদ ও শিক্ষাগত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তার বয়স ও সনদে উল্লিখিত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে, যা সনদের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালেও তার পারিবারিক অবস্থা ছিল সাধারণ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গাজীপুরের শ্রীপুর, মুন্সিগঞ্জ সদর ও গজারিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক স্থাপনা, কৃষিজমি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দৌলতপুর বাজার এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিসহ একটি বাণিজ্যিক মার্কেট, নিজ এলাকায় কয়েকতলা আবাসিক ভবন, বিপুল কৃষিজমি এবং ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিকানা রয়েছে তার। এছাড়া আশুলিয়া ও সাভার এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে ব্যবসায়িক বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করা হয়েছে। এ সময় অফিস-সংশ্লিষ্ট নন এমন একজন নারীর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহানারা আক্তার নামে অভিযুক্ত ওই নারী। তিনি বলেন, “আমি বেলাল উদ্দিন আকন্দকে চিনি, তবে কোনো সময় তার অফিসে বসিনি। তার ব্যক্তিগত সম্পদ বা পারিবারিক বিষয় সম্পর্কেও আমার কোনো ধারণা নেই।”
অন্যদিকে বেলাল উদ্দিন আকন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনেও একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার সম্পদের উৎস, চাকরিতে নিয়োগের বৈধতা এবং উত্থাপিত অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি চাকরিতে জাল সনদ ব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগগুলো গুরুতর। তাই বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com