
খুলনা ওয়াসা (পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ) জুড়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. কামরুজ্জামান এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারের বদলির নির্দেশ জারির পরও সাবেক এমডি মো. কামরুজ্জামান দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, পদোন্নতির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোতে স্বচ্ছতার অভাব ছিল।
কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর পর থেকে তাদের ওপর প্রশাসনিক চাপ বাড়তে থাকে। ইউনিয়নের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ, বিভাগীয় মামলা এবং চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
এছাড়া ডিএমডি (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালার বিরুদ্ধে হাজিরা ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরকারি ছুটিতে থাকা সত্ত্বেও অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে এবং বিভিন্ন বিচারাধীন বিষয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে।
কর্মচারীদের দাবি, গত ২৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়।
এদিকে সাবেক এমডি মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অফিস কক্ষ সংস্কারের নামে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থে কেনা বিভিন্ন সামগ্রী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এবং অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে।
খুলনা ওয়াসার ১ হাজার ৬০০ পানির মিটার চুরির ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পরিবর্তে তদন্ত প্রক্রিয়া ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। ফলে সংস্থার কোটি কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি আড়ালে থেকে গেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে সংস্থার যানবাহন পরিচালনায় জ্বালানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কর্মচারীদের দাবি, পূর্বে মাসিক জ্বালানি ব্যয় যেখানে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার টাকা ছিল, বর্তমানে তা ৫ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। সরকারি যানবাহনের অপব্যবহার এবং ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, ২০২০ সালে বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এ সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এছাড়া প্রকল্পভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগ, অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দায়িত্ব প্রদান এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে পদোন্নতির অভিযোগও সামনে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খুলনা ওয়াসার ডিএমডি (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অধিকাংশই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওয়াসার একটি পক্ষ বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে।”
অন্যদিকে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমার বিস্তারিত জানা নেই। আমি বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নই। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
এদিকে খুলনার নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, উচ্চপর্যায়ের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হলে সংস্থাটিতে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com