
মাদারীপুরে প্রতিবন্ধী ভাতা ও সুবর্ণ নাগরিক (প্রতিবন্ধী) কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ভুক্তভোগীদের উপস্থিত করে তাদের বক্তব্য ও জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন ঢাকা বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পরিচালক আদিল মোত্তাকীনকে আহ্বায়ক এবং উপপরিচালক এস এম ফজলুল করিমকে সদস্য করে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আয়শা আক্তার আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার ২০০ জন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী রয়েছেন। তারা প্রতি তিন মাস অন্তর ২ হাজার ৭১৬ টাকা করে ভাতা পেয়ে থাকেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ভাতার অর্থ নির্ধারিত উপকারভোগীর পরিবর্তে অজ্ঞাত বা তথাকথিত ‘গায়েবি’ মোবাইল নম্বরে চলে যাচ্ছে। এমনকি মৃত ব্যক্তিদের নামেও দীর্ঘদিন ধরে ভাতার অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বি এম আসাদুজ্জামানের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং দুর্বল তদারকির কারণে শত শত উপকারভোগী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি কার্যালয়ের কিছু সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে নিজেদের পছন্দের বিকাশ নম্বর সংযুক্ত করে ভাতার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।
প্রতিবন্ধী ভাতা ব্যবস্থাপনায় এসব অনিয়ম নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ‘ভাতার টাকা যাচ্ছে গায়েবি নম্বরে’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
এছাড়া ‘ভুয়া প্রতিবন্ধী কোটায় যুবকের সরকারি চাকরি’ শিরোনামে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে কালকিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়েও তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। তদন্তকারী দলের সদস্যরা এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ করেছেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক আদিল মোত্তাকীন বলেন, “আমরা কালকিনি উপজেলা থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি। বর্তমানে সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”
এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাদারীপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, “গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আমরা বিভাগীয় কার্যালয়ে তদন্তের জন্য আবেদন জানিয়েছিলাম। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নামে ভাতার অর্থ যাওয়ার প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ভাতা ও সুবিধা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com