
চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) আলী নূরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ চাকরি জীবনে বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আলী নূর ২০০৪ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৮ সালে মুন্সীগঞ্জে কর্মরত অবস্থায় পদ্মা সেতু প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে এবং পরে শরীয়তপুরে দায়িত্ব পালনকালে ভূমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
চাঁদপুরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়ও তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি বিভাগে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করতেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চাঁদপুর ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি, বহুতল ভবন এবং ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে সম্পদের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, মতলব উত্তর উপজেলায় একটি সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ কার্যক্রমেও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীতে পুনর্মূল্যায়নের সময় পূর্বে নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়।
এছাড়া বিভিন্ন সরকারি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রভাব খাটিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী আলী নূর সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো ষড়যন্ত্রমূলক এবং এসবের কোনো সত্যতা থাকলে তা লিখিতভাবে প্রমাণ করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সম্পদের উৎস যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com