
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (গাউক) বদলি হওয়া ইমারত পরিদর্শক মুরাদ আলীর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র এক দশকের সরকারি চাকরি জীবনে তিনি কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে রাজউকে ইমারত পরিদর্শক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করে। ২০২২ সালে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে রাজউকের ৬৭ জন ইমারত পরিদর্শককে বদলি করা হলে লটারির মাধ্যমে তাকে জোন-২ থেকে জোন-৫-এ স্থানান্তর করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ২০২০ সালে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের পর তাকে সেখানে বদলি করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, একজন দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও মুরাদ আলী অস্বাভাবিক পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় তার চারটি বাড়ি এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে আরও সাতটি ফ্ল্যাট রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব সম্পদের একটি বড় অংশ তিনি নিজের নামে না কিনে স্ত্রী রোকসানা পারভীন, বাবা আশরাফুল আলম খান, বোন মাহমুদা আক্তার এবং ঘনিষ্ঠ পরিচিত ব্যক্তিদের নামে ক্রয় করেছেন।
এছাড়া আবাসন খাতে বিনিয়োগ, ভবন নির্মাণ-সংক্রান্ত ফাইল আটকে রেখে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অংশীদারিত্ব নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির বেতনের বাইরে তার বৈধ আয়ের উল্লেখযোগ্য কোনো উৎস নেই।
মুরাদ আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্যতম আলোচিত অভিযোগ হলো, ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের ফাইলে তিনি বিশেষ একটি ‘এম’ চিহ্ন ব্যবহার করতেন। অভিযোগকারীদের মতে, এই চিহ্নটি ছিল ঘুষ লেনদেনের একটি গোপন সংকেত এবং সংশ্লিষ্ট চিহ্ন ছাড়া অনেক ফাইল অনুমোদন পেত না। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি ঘুষের বিনিময়ে একাধিক নকশা অনুমোদন এবং ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত অনিয়মে জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে জয়দেবপুর মৌজার একটি জলাশয় হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সড়কের প্রস্থের শর্ত পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত বা ত্রুটিপূর্ণ প্রকল্পে বিশেষ সুবিধা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে ভূমি ও নকশা সংক্রান্ত নথি যথাযথ যাচাই ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মুরাদ আলীর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি পুরোনো নথি পর্যালোচনা করে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে মালিকদের নোটিশ পাঠাতেন এবং ভবন ভেঙে ফেলার আশঙ্কা দেখিয়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারীদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ভবন মালিক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুরাদ আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রথম দিকে তিনি ফোন কল গ্রহণ করলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত কোনো আদালত বা সরকারি তদন্ত সংস্থা মুরাদ আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রমাণিত বলে ঘোষণা করেনি। একইভাবে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কি না, তাও কোনো স্বাধীন তদন্তে নির্ধারিত হয়নি। ফলে বিষয়টি বর্তমানে অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যার পর্যায়েই রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা হলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে এবং জনমনে সৃষ্টি হওয়া প্রশ্নেরও জবাব মিলবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com