
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ রেখে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি দল সিলেটে বনভোজনে অংশ নেওয়ায় জনসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (৭ জুন) নড়িয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, কৃষি অফিস, সমাজসেবা অফিসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন কাজে আসা সেবাগ্রহীতাদের অপেক্ষা করতে এবং অনেককে সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খানের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রায় ৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গত বৃহস্পতিবার রাতে দুটি বাসে করে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস, নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবুজ চৌধুরী, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শরীফ মো. ফয়সাল, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম এবং আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মরিয়ম আক্তারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও তথ্য থেকে জানা যায়, বনভোজনে অংশগ্রহণকারীরা সিলেটের জাফলং, বিছানাকান্দি, সাদা পাথরসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ভ্রমণ করেছেন।
সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান সাগর বলেন, “ব্যবসায়িক কাজ ফেলে জরুরি প্রয়োজনে ইউএনও কার্যালয়ে এসেছিলাম। এসে দেখি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেউ অফিসে নেই। অনেক দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।”
আরেক সেবাগ্রহীতা হানিফ মিয়া বলেন, “জমি-সংক্রান্ত একটি কাজের জন্য এসিল্যান্ড অফিসে এসেছিলাম। কর্মকর্তা না থাকায় কোনো সেবা নিতে পারিনি। পরে ফিরে যেতে হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোবিন্দ চক্রবর্তী জানান, ইউএনওসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বনভোজনে গিয়েছেন। অফিসে কেবল স্টাফরা দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, “অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিবার-পরিজনসহ বনভোজনে অংশ নিয়েছেন। আমি নিয়ম অনুযায়ী ছুটি নিয়েছি।”
এ বিষয়ে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম।”
এদিকে সরকারি অফিস চলাকালে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুপস্থিতিতে জনসেবা ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি সেবার ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com