
রাষ্ট্রায়ত্ত মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে মদের চালান তদারকির দায়িত্বে থাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা সংক্রান্ত অসঙ্গতি, ছুটিকালীন সময়ে চালানপত্রে স্বাক্ষর এবং আগাম সাদা ভাউচারে স্বাক্ষর করে রাখার মতো কর্মকাণ্ড। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শককে ঢাকায় সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে এবং ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কেন্দ্রীয় গুদাম থেকে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে মদ সরবরাহের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন ও তদারকি বাধ্যতামূলক। এ দায়িত্বে ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শাহজালাল খান।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৮ ও ১৯ মে শাহজালাল খান নৈমিত্তিক ছুটিতে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তবে ১৯ মে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি থেকে ঢাকার মতিঝিলে এক হাজার বক্স বিদেশি মদের একটি চালান পাঠানো হয়, যার নথিপত্রে তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়। একই সময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপস্থিতি রেজিস্টারে তাকে অনুপস্থিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু ওই চালানই নয়, দায়িত্বস্থলে উপস্থিত না থেকেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চালানপত্র ও ভাউচারে আগাম স্বাক্ষর করে রাখতেন তিনি। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব নথি ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগকারীদের দাবি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম প্রশাসনিক দুর্বলতা সৃষ্টি করতে পারে এবং অনিয়ম বা রাজস্ব ঝুঁকির সুযোগ বাড়িয়ে দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেরুর চালান ব্যবস্থাপনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধির স্বাক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া। ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত না থেকেও যদি স্বাক্ষরিত নথি ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে পুরো তদারকি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন বলেন, “কেরুর মতো স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে আগাম স্বাক্ষর বা ব্ল্যাঙ্ক ভাউচারে সইয়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
অভিযোগ সামনে আসার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শামছুল আলমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত দল ইতোমধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছে।
তদন্ত চলমান অবস্থায় গত ১ জুন পরিদর্শক শাহজালাল খানকে ঢাকায় সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়েও পৃথক তদন্ত করা হতে পারে।”
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (ডিস্টিলারি) রাজিবুল হাসান বলেন, “চালান প্রক্রিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধির স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই যাচাই হওয়া উচিত।”
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিদর্শক শাহজালাল খান। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়ম করিনি। তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।”
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com