
সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা নিজ দপ্তরের টেন্ডার কার্যক্রমে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অংশ নিতে পারেন না। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পরিবারের সদস্য কিংবা নিকটাত্মীয়ও ওই প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার হিসেবে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের আওতায় থাকেন। তবে এসব বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে খাদ্য অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিজ পরিবারের সদস্যদের নামে কোটি টাকার টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, খাদ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন খাদ্য গুদাম ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটের মংলা এলাকায় একটি খাদ্য গুদাম নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম তার আপন ভাই মিঠু, খালাতো ভাই শহিদ এবং ভাগনে আরমানকে সম্পৃক্ত করে একটি ঠিকাদারি লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার কার্যাদেশ নিশ্চিত করেন।
সূত্রগুলো বলছে, সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সটির বড় ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও খাদ্য অধিদপ্তরের কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। তবে একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান গোপনে দরপত্র সংগ্রহ করে টেন্ডারে অংশ নেয় এবং সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করে।
অভিযোগ রয়েছে, সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ না দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এবং তুলনামূলক বেশি দর প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়, যার সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকের পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত সরকারি টেন্ডারে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ কম দর প্রস্তাবের প্রবণতা দেখা যায়, যা সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৮ কোটি টাকার কিছু বেশি দর প্রস্তাব করেছিল, যা অনুমোদন পেলে সরকারের উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় পুরো প্রাক্কলিত মূল্যের কাছাকাছি অর্থে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে কাঙ্ক্ষিত দরপত্র অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প পরিচালক নিজেই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং টেন্ডারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও আর্থিক বিষয়াদি তদারকি করেছেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় বাস্তব নির্মাণ ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় বা আত্মসাতের আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “পুরো অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com