
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চাঁদা দাবির অভিযোগে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ওমর মোহাম্মদ অপুকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে আলোচনার মধ্যে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত ওমর মোহাম্মদ অপুকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ওমর মোহাম্মদ অপু পৌর শহরের পঞ্চবটি এলাকার বাসিন্দা এবং মোমতাজ মোল্লার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং পৌর বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই অডিওতে পপি বেগম নামের এক নারীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। কথোপকথনে এলাকার কিছু যুবক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তিকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ওমর মোহাম্মদ অপু। সেখানে তিনি দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভুয়া অডিও তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার কারণে একটি মহল তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। মামলার বাদী পপি বেগম অভিযোগ করেন, তিনি কোনো ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। এরপরও এলাকায় বসবাস অব্যাহত রাখতে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
পপি বেগমের অভিযোগ, চাঁদার টাকা না দিলে তাকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হবে বলে চাপ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি বাড়িঘর বিক্রি করে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। নিজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয় এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে চাঁদা দাবির অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে।
ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, “ভুক্তভোগী নারী পপি বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে ওমর মোহাম্মদ অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঁদা দাবি করতে গিয়ে প্রশাসনের নাম ব্যবহার করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে ভৈরব থানা পুলিশের অবস্থান কঠোর। অপরাধের সঙ্গে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com