
বরিশাল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, কমিশন বাণিজ্য, বিল আটকে রাখা, বদলি আদেশ কার্যকর না করা এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন রাস্তা ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হতো। এছাড়া জরিমানার অর্থ মওকুফ, প্রকল্প সংশোধন (রিভাইজ স্কিম) এবং অন্যান্য প্রশাসনিক অনুমোদনের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক সুবিধা ছাড়া কোনো ফাইল অনুমোদন বা নিষ্পত্তি করা হতো না।
একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, কার্যাদেশ প্রদান থেকে শুরু করে প্রকল্প অনুমোদন এবং বিল পরিশোধের প্রতিটি ধাপেই অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের চাপ ছিল। এ পরিস্থিতিতে অনেক ঠিকাদার অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কেউ কেউ প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিলেও পরবর্তীতে বিষয়গুলো আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. এনামুল হককে ব্যবহার করে কমিশন ও ঘুষ সংগ্রহের একটি অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক পরিচালিত হতো। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অনুমোদন বা ‘সবুজ সংকেত’ ছাড়া কোনো ফাইল অগ্রসর হতো না।
এদিকে বদলি সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত ১৪ মে জারিকৃত এক অফিস আদেশে মো. এনামুল হককে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভ্যন্তরীণ প্রভাব খাটিয়ে বদলি কার্যক্রম আটকে রাখা হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যেসব আত্মীয়তা বা রাজনৈতিক সংযোগের দাবি করা হচ্ছে, তার অনেকগুলোরই বাস্তব ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাঠপর্যায়ে সরাসরি তদারকির পরিবর্তে দপ্তরে বসেই প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করেই দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল, ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং দায় নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com