দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ; বক্তব্য মেলেনি অভিযুক্তদের
রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) কল্যাণপুর বাস ডিপো ও তেজগাঁও ট্রাক ডিপোকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ডিপোগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অভিযোগে কল্যাণপুর বাস ডিপোর ম্যানেজার (ইউনিট প্রধান) মো. শাহরিয়ার বুলবুল এবং তেজগাঁও ট্রাক ডিপোর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আশরাফুল আলমের নাম উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ঈদ উপলক্ষে পরিচালিত বিশেষ বাস সার্ভিসের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং পরিচালন ব্যয়ের হিসাব নিয়ে অসঙ্গতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
ডিপোর কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে কল্যাণপুর ডিপোর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার ঘাটতি দেখা গেছে। তাদের দাবি, যন্ত্রাংশ ক্রয়, যানবাহন পরিচালনা এবং দৈনিক আয়ের হিসাব সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগকারীদের একটি অংশ দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার নামে বা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ অর্জনের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব সম্পদের উৎস বা মালিকানা সম্পর্কে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।
কল্যাণপুর ডিপোর কয়েকজন কর্মচারীর অভিযোগ, ডিপোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমে তেজগাঁও ট্রাক ডিপোর একাধিক কর্মকর্তার প্রভাব রয়েছে। তাদের দাবি, এই প্রভাবের কারণে অভ্যন্তরীণ অনিয়মের অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত বা পর্যালোচনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী বলেন, “ডিপোর বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
সুশাসন ও পরিবহন খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।
তারা বলেন, বিআরটিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, টিকিট বিক্রি, যানবাহন পরিচালনা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আধুনিক অডিট ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে মো. শাহরিয়ার বুলবুল ও মো. আশরাফুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বিআরটিসির নিজস্ব তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে স্বাধীন তদন্ত করা উচিত। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করা সহজ হবে।
বর্তমানে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা, দায়ী ব্যক্তি এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর নির্ভর করবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com