তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবি পরীক্ষার্থীদের
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কয়েকটি পদে সাম্প্রতিক নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁস, নিয়োগ বাণিজ্য এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় ছিল।
তবে নিয়োগ কমিটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, লিখিত পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব ছিল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ ছিল না।
সূত্র জানায়, গত ১৬ মে রাজধানীর মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলে। অভিযোগকারীদের দাবি, পরীক্ষার আগে থেকেই কিছু প্রার্থীর কাছে প্রশ্ন ও উত্তর পৌঁছে যায়, যা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএতে লস্কর, বাস হেলপার, শুল্ক প্রহরী, মার্কম্যান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ড্রাইভারসহ বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। অভিযোগকারীদের একটি অংশের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচনের চেষ্টা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও আনুষ্ঠানিক যাচাই এখনো হয়নি।
কিছু পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিচয় যাচাই ও স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখার ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভুয়া পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ বা অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিছু প্রার্থীকে একই প্রশ্নে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হলে তারা সন্তোষজনক নম্বর নাও পেতে পারেন। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের একটি অংশের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। তারা উত্তরপত্র, হাজিরা শিট, পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষর, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং পরীক্ষার প্রশাসনিক নথিপত্র যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক মো. সাজেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিল। তিনি বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়া কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে।”
চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার বিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএর কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, অতীতেও বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। তাদের মতে, নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ এবং কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।
অপরাধ বিশ্লেষক ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নফাঁস বা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত না হন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনসাধারণের আস্থা অটুট থাকে।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, প্রয়োজন হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও পরিধি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com