
পুলিশের সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত ওসি মাহমুদুল হাসান জুয়েলের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিকানা গড়ে তুলেছেন।
অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার মদন উপজেলার নিজ এলাকায় ওসি জুয়েল উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ক্রয় করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক শান বাঁধানো পুকুর, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি। এছাড়া ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকায় তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ির তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, তার স্ত্রীর নামে পরিচালিত ‘মারিহা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের উৎস ও প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানা গেছে।
তবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি মাহমুদুল হাসান জুয়েল। তিনি অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, উল্লেখিত অধিকাংশ সম্পদ পারিবারিক সূত্রে অর্জিত এবং অতীতে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা তার বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে কোনো অনিয়ম খুঁজে পায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও আত্মীয়ের দাবি, একসময়ের সাধারণ পরিবারের সন্তান মাহমুদুল হাসান জুয়েল বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক। তাদের অভিযোগ, সম্পদের একটি অংশ আত্মীয়-স্বজন ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামেও রাখা হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
এদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের সত্যতা, সম্পদের উৎস এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা জরুরি। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা এবং সম্ভাব্য আইনগত দায় নির্ধারণ হবে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন ও আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com