
ভোলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, উন্নয়ন ও নির্মাণ খাতের অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদ-এর ঘনিষ্ঠ মহলের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইফতারুল হাসান স্বপনের ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে রফিকুল ইসলাম খান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পদে নিয়োগ পান। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ওই চেয়ারম্যানের ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে দপ্তরের ভবন ও স্থাপনা নির্মাণ খাতের বড় অঙ্কের বরাদ্দ কাজ না করেই উত্তোলন করা হয় এবং তা ভাগাভাগি করা হয়।
এর আগে উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালেও সরকারি অর্থ বরাদ্দ পেলেও কোনো গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণ না করে পুরো অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ভুয়া বিলের মাধ্যমে উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভোলায় যোগদানের পর থেকেই প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী, অফিস সরঞ্জাম ক্রয় এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের নামে ভুয়া বিল দেখিয়ে ব্যাপক অনিয়ম শুরু করেন তিনি। জেলায় একাধিক যোগ্য কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও একাই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব পদের আর্থিক বরাদ্দও তিনি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। এছাড়া ভোলার সাতটি উপজেলায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণে উপস্থিত না থেকেও শুধু কাগজে-কলমে স্বাক্ষর দেখিয়ে নিয়মিত ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান স্বীকার করেন যে, কয়েকটি উপজেলার কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। তিনি দাবি করেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলন করে নিজের কাছে রেখেছেন এবং পরে কাজ সম্পন্ন করবেন।
তিনি আরও বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ কম হওয়ায় ঠিকাদাররা কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী কাজ সম্পন্নের আগে সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখার কোনো সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ভোলার প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। একাধিক খামারি অভিযোগ করে বলেন, মাঠপর্যায়ে তারা সরকারি কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না, অথচ কর্মকর্তারা বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করছেন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, ভোলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com