
প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরে বিভিন্ন মামলার রিটের সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নানা আইনি জটিলতাকে সুকৌশলে ব্যবহার করে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। সূত্র জানায়, মহিদুর রহমান সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান-এর ভাই।
শুধু অনিয়ম নয়, মহিদুর রহমান পরিচালিত বিভিন্ন আর্থিক ও বিনিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার গ্রাহক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী পল্লীতে বিনিয়োগের নামে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অনেক বিনিয়োগকারী এখনো তাদের অর্থ ফেরত পাননি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হারুন সরকার নামে এক গ্রাহক প্রতিকার চেয়ে নরসিংদীর মাধবদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় এক বছর আগে বনানীভিত্তিক প্রবাসী পল্লী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিদুর রহমান নরসিংদীর মাধবদী এলাকার কান্দাইল মৌজার প্রায় পাঁচ একর জমি রাতের আঁধারে দখল করেন। পরে সেখানে বালু ভরাট করা হয় এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পাকা দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা বাধা দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় মহিদুর রহমানের লোকজন হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহার এবং জমি প্রবাসী পল্লীর নামে লিখে দেওয়ার জন্যও চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, পরবর্তীতে হাইকোর্টে একটি রিটের মাধ্যমে বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় ফেলা হয়। ফলে তারা এখনো নিজেদের ফসলি জমি ফেরত পাননি এবং জমির মূল্যও বুঝে পাননি। এ ঘটনায় তারা আইনানুগ সমাধান ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে, প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহিদুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সরকারি উদ্যোগে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সাধারণ মানুষের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com