
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ট্রান্সকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযোগপত্র জমা হওয়ার পরও সিমিন রহমানসহ সব আসামিকে আদালত অব্যাহতি দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। মামলাটি করেছিলেন তার ছোট বোন শাযরেহ্ হক। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে মামলার গতিপথ পরিবর্তন করা হয়।
বাদী শাযরেহ্ হক দাবি করেছেন, আদালত তাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই মামলাটি খারিজ করেছেন। তার অভিযোগ, তৃতীয় পক্ষের প্রভাবের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
পারিবারিক এই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর। তার ছোট মেয়ে শাযরেহ্ হক বড় বোন সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা, অর্থ আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল ও অবৈধভাবে অংশীদারত্ব হস্তান্তরের অভিযোগ তোলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ভাই-বোনের স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং ভুয়া পারিবারিক সমঝোতা দলিল তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর গুলশানে লতিফুর রহমানের নামে থাকা জমি ভুয়া দানপত্রের মাধ্যমে নিজের নামে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ২০২০ সালে লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর থেকেই জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনা শুরু হয়। পরে বিষয়গুলো সামনে এলে মামলা করেন শাযরেহ্ হক। তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ তদন্ত ব্যুরো। তদন্ত শেষে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত এক পরিচালনা পর্ষদের সভায় শাযরেহ্ হক ও তার ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমান উপস্থিত না থাকলেও তাদের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। একইসঙ্গে লতিফুর রহমানের ভুয়া অনুমোদনের স্বাক্ষরও দেখানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসে।
তবে আদালত শেষ পর্যন্ত সিমিন রহমানসহ সব আসামিকে অব্যাহতি দেন। এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে শাযরেহ্ হক বলেন, “সব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন। কিন্তু আমাদের বক্তব্য না শুনেই আসামিদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে, সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তার দাবি, হত্যা, অংশীদারত্ব জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলাগুলো চাপা দিতে এই ঘুষ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com