
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ বিআরটিএ অফিসকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের মাধ্যমে অদক্ষ ব্যক্তিদেরও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সহজেই লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে সড়কে বাড়ছে অদক্ষ চালকের সংখ্যা, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রতিদিন এই অফিসে প্রায় ২০০টি নতুন লাইসেন্স আবেদন এবং ১০০ থেকে ১১০টি নবায়নের আবেদন জমা পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অবৈধ লেনদেন হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দুর্নীতির অর্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ ব্যক্তিগত সম্পদের মালিক হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রভাবশালী মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষায় নির্ধারিত নম্বর না পেলেও নির্দিষ্ট দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দিলেই লাইসেন্সের প্রক্রিয়া সহজ হয়ে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের কারণে দালাল চক্র কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। আগে অফিসের ভেতরে প্রকাশ্যে দালালদের আনাগোনা থাকলেও এখন তারা আশপাশের ফটোকপি দোকান, পান-সিগারেটের দোকান ও রাস্তার পাশের অস্থায়ী দোকানগুলোতে অবস্থান করছে। সেখান থেকেই বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদান-প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া অভিযানের সময় গ্রেফতার এড়াতে দালালরা নিজেদের ভোটার আইডি কার্ড ও অন্যান্য কাগজপত্র বহন করছে, যাতে তারা সাধারণ সেবাগ্রহীতা হিসেবে পরিচয় দিতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ নিজেদের অফিস স্টাফ, আউটসোর্সিং কর্মী কিংবা কর্মকর্তাদের আত্মীয় পরিচয়েও চলাফেরা করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধভাবে আদায়কৃত অর্থের একটি বড় অংশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কিছু কর্মচারীর মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়। বাকি অর্থ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের কথা বলা হলেও এর সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল দুর্নীতির এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com