
বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে অফিসের নকল নবিশ পরেশ সমাদ্দার ওরফে ‘পরেশ দাদা’র বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, অবৈধ অর্থ আদায় এবং ভূমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রারের গাড়িচালক ও নকল নবিশ—দুই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি অফিসকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ফলে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গাঁওলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন পরেশ সমাদ্দার। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অসহায় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের জমি দখল এবং জোরপূর্বক রেজিস্ট্রেশনের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সময়ে রাজনৈতিক বিরোধিতার জেরে কয়েকজনের ওপর হামলা ও জমি দখলের ঘটনাতেও তার নাম উঠে আসে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম রিপনের নাম ব্যবহার করে প্রতিটি দলিলে অতিরিক্ত কমিশন আদায় করেন পরেশ সমাদ্দার। দলিলের নকল তুলতে কিংবা অন্যান্য সেবা পেতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা।
তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ না দিলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। এমনকি ছুটির দিনেও অনিয়মিতভাবে দলিল সম্পাদনের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
একজন সাধারণ নকল নবিশ হয়েও কীভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন—এ প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকেন্দ্রিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নামে-বেনামে সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
যদিও এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে সাধারণ কৃষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নকল নবিশ কমিটির প্রভাব কাজে লাগিয়ে ভূমিদস্যু ও জবরদখলকারী চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন তিনি।
বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা উল্লেখ করে এলাকাবাসী বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, মোল্লারহাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম বন্ধে প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
একইসঙ্গে পরেশ সমাদ্দারের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com