
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ঘিরে সক্রিয় একটি দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. হারুন অর রশিদ রুবেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিআরটিএ’র গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা বদল, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও অন্যান্য সেবাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য রুবেল। তার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ এ দীর্ঘদিন কর্মরত সাবেক হিসাবরক্ষক ও বর্তমানে এআরও মোহাম্মদ রুহুল আমিনের নামও এসেছে অভিযোগে।
জানা গেছে, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা মো. হারুন অর রশিদ রুবেল ২০১১ সালে ঢাকায় আসেন। শুরুতে মিরপুর বিআরটিএ অফিসসংলগ্ন একটি বহিরাগত অফিসে পিয়নের কাজ করতেন। পরে র্যাংগস মোটরসের পরিবহন বিভাগে কাজের সুযোগ পান।
তবে সেখানে কর্মরত অবস্থায় রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ভ্যাটের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চাকরি হারান বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
পরবর্তীতে বিআরটিএ অফিসের পাশে “শাহরাস্তি বিজনেস সেন্টার” নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তার দালাল চক্র।
অভিযোগ রয়েছে, করোনা মহামারির সময় বিআরটিএ’র কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়লে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির ট্যাক্স টোকেন নবায়নকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি কোষাগারে সামান্য অর্থ জমা দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে পূর্ণ অর্থ নেওয়া হতো এবং সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে অনিয়মের মাধ্যমেও কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পুরোনো সিএনজি অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের সময় মালিকদের তথ্য ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন পাইয়ে দেওয়ার নামে উৎকোচ গ্রহণ করা হতো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নতুন গাড়ি বিআরটিএতে উপস্থিত না করেই প্রতি গাড়ির জন্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েক বছরের ব্যবধানে রুবেল একাধিক ফ্ল্যাট, গাড়ি ও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নিজের ও ঘনিষ্ঠজনদের নামে একাধিক সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাস এবং অন্যান্য সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তার নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ১৫টি যানবাহনের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ এ দীর্ঘদিন কর্মরত এআরও মোহাম্মদ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় একই কর্মস্থলে থেকে তিনি লাইসেন্স, মালিকানা বদল ও রুট পারমিট সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, উৎকোচ বাণিজ্যের অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জানা গেছে, রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। ইতোমধ্যে কিছু সিএনজি মালিক ও শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
বিআরটিএ সংশ্লিষ্টদের মতে, মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা হলেও মূল সিন্ডিকেটের সদস্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমছে না।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিআরটিএকে দালালমুক্ত করতে এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com