
ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমান রাসেলের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, টেন্ডার বাণিজ্য ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে সুবিধা দিয়ে কাজ বণ্টন করা হয় এবং বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, লাভজনক প্রকল্পগুলো সিন্ডিকেটভুক্ত ঠিকাদারদের দেওয়া হলেও কম লাভজনক বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বাইরের ঠিকাদারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জেলার অধিকাংশ উন্নয়ন কাজের টেন্ডারে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, মেইনটেন্যান্স ও উচ্চ বাজেটের প্রকল্পগুলো আগে থেকেই নির্ধারিত ঠিকাদারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেটভুক্ত ঠিকাদারদের নির্দিষ্ট দর (রেট) ঠিক করে দেওয়া হয়। পরে অন্য কোনো ঠিকাদার কম দর দিলেও নানা অজুহাতে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের ভাষ্য, “লোক দেখানো ড্রয়ের মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগি করা হলেও পুরো প্রক্রিয়া আগেই নিয়ন্ত্রিত থাকে।”
অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমানের ঘনিষ্ঠ দুই উপ-সহকারী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন ও আশরাফুল ইসলাম মাঠপর্যায়ে ঘুষ আদায়ের দায়িত্ব পালন করেন।
সূত্রগুলো জানায়, তারা মোটরসাইকেলে বিভিন্ন প্রকল্প এলাকায় ঘুরে ঠিকাদারদের কাছ থেকে চুক্তিকৃত অর্থ আদায় করেন। বিল প্রস্তুত, এমবি (মেজারমেন্ট বুক) তৈরি এবং বিল ছাড়ের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) নাম ব্যবহার করেও কমিশন আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল মেইনটেন্যান্স, ভবন সংস্কার ও বিভিন্ন কেনাকাটার ক্ষেত্রে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে।
এলজিইডির যানবাহন শাখাতেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গাড়ি, ট্রাক, রোলার ও হটমিক্স প্ল্যান্টে প্রকৃত সমস্যা না থাকলেও বড় ধরনের ত্রুটি দেখিয়ে মেরামতের নামে অতিরিক্ত বিল করা হয়।
এছাড়া সচল যন্ত্রপাতিকে নষ্ট দেখিয়ে বাইরে ভাড়া দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সম্প্রতি উপ-সহকারী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন ও আশরাফুল ইসলামের বদলির আদেশ হলেও তা কার্যকর হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে বদলি স্থগিত করা হয়।
এ বিষয়ে আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন শাখার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করে বদলি ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, “নির্ধারিত কমিশনের বাইরে আলাদাভাবে ঘুষ দিতে হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে এবং কাজের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি করা হলে এলজিইডিতে ঘুষ বাণিজ্য কমবে এবং উন্নয়ন কাজের মান উন্নত হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমান রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com