
রাজধানীর তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কেরানি আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য, হয়রানি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তার কর্মকাণ্ডে সাধারণ দলিল লেখক ও সেবা নিতে আসা মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহমান প্রথমে নকল নবিস হিসেবে সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অফিসে প্রভাব বিস্তার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, সাভারে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার সম্পদের তথ্য নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। কিছু সূত্র দাবি করেছে, বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্তের ফল প্রকাশ হয়নি।
খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কয়েকজন দলিল লেখক অভিযোগ করেন, আব্দুর রহমানের চাহিদামতো অতিরিক্ত টাকা না দিলে দলিল আটকে রাখা, অযথা জটিলতা তৈরি করা এবং হয়রানির শিকার হতে হয়। অন্যদিকে টাকা দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাদের।
দলিল লেখক জাহিদ হোসেন জানান, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ভোগান্তির মধ্যে আছি। অতিরিক্ত টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে কাজ আটকে রাখা হয়।”
সূত্র জানায়, সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও দলিলপ্রতি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে। অনেক ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার পরও রসিদ দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এর আগে ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত অবস্থায় আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে বদলি হয়ে আসার পর তার ঘুষ বাণিজ্য আরও বেড়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী দলিল লেখক ও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com