
প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও সনি-র্যাংস ইলেকট্রনিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একরাম হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিদেশ যাত্রার অনুমতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, একরাম হোসেনের মা জাপানের নাগরিক হওয়ায় তিনি জাপানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এবং জাপানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ সফর অব্যাহত রেখেছেন।
সূত্র আরও জানায়, তার বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সেটি আর নবায়ন করা হয়নি। তবে জাপানি পাসপোর্ট থাকার বিষয়টি একরাম হোসেন স্বীকার করলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বারবার শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্টের বিষয়টিই উল্লেখ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে অভিযোগকারীদের দাবি, কৌশলে জাপানি পাসপোর্টের বিষয়টি আড়াল করে বিদেশ ভ্রমণের ঘটনাকে গুরুত্বহীন করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে দুদকের অভ্যন্তরে একটি অসাধু চক্র বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত একরাম হোসেনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আদেশ কার্যকর থাকা অবস্থাতেই তিনি ১৮ ফেব্রুয়ারি জাপানে যান এবং ২০ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন।
এ বিষয়ে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্লক করা হয়েছে। তবে জাপানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় দুদকের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দুদকের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিদেশ গমনের পথ সুগম করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে মানিলন্ডারিং শাখার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে একরাম হোসেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও একজন ব্যবসায়ী কীভাবে নির্বিঘ্নে ইমিগ্রেশন পার হয়ে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন, তা এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো ধরনের অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার বা যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com