
ঢাকার তেজগাঁওয়ের এলেনবাড়ি এলাকায় অবস্থিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের সম্পদ বিভাগে ব্যাপক অনিয়ম, টেন্ডার কারসাজি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিকুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ড. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এ সিন্ডিকেটে সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুশান্ত দত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ ঠিকাদারদের একটি অংশ দাবি করেছে, এই সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে তারা কার্যত জিম্মি অবস্থায় পড়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারকারী কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে নানা প্রকল্পে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক জামাল হোসেনকে কাজ পাইয়ে দিতে বিভিন্ন টেন্ডারের শর্ত নির্দিষ্টভাবে সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারদের দাবি, এমনভাবে প্রাক্কলন ও শর্ত নির্ধারণ করা হয় যাতে অন্য ঠিকাদাররা কার্যত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারেন।
সূত্রগুলো আরও জানায়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি বাসভবনের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে প্রায় ৮ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না হলেও বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া সম্প্রতি আহ্বান করা কয়েকটি টেন্ডার নিয়েও ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চলতি মাসে আহ্বান করা দুটি টেন্ডারে শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়। এতে প্রায় ২৫ জন ঠিকাদার প্রতিযোগিতা থেকে কার্যত বাদ পড়েছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে ৪ মে আহ্বান করা একটি সুইমিং পুল সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কাজটি পূর্বনির্ধারিত একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলেনবাড়ি এলাকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত ১ নম্বর ও ২ নম্বর ভবনের সংস্কারের নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। ভবনগুলোর কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, গত দুই বছরে সেখানে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার কাজ হয়নি।
অন্যদিকে, ১২ মে প্রকাশিত আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগসংক্রান্ত টেন্ডার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিতভাবে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
ঠিকাদার মহলের অভিযোগ, যেসব নিবন্ধিত ঠিকাদার ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের কাজ দেওয়া হয় না—even প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলেও। এতে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com