
মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে এসে হয়রানি, তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ এবং সাংবাদিকের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অফিসের দুই সহকারী রনি ও সালমানের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সংকেত বা ‘মার্কা’ ব্যবহার করে দ্রুত ফাইল জমা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বড়লেখা উপজেলার দাসের বাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক নিল দাস নাম সংশোধনের জন্য পাসপোর্ট অফিসে গেলে সালমান নামে এক কর্মচারী তাকে ‘নোয়াখালী’ বলে সম্বোধন করে তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকার মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি মো. হাসান আহমেদ ইয়ামিন বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দুই কর্মচারী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে আনসার সদস্যদের ডেকে সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আইনজীবী বলেন, সাংবাদিকের কাজে বাধা দেওয়া, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কিংবা ভিডিও ধারণে বাধা সৃষ্টি করা ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়তে পারে এবং প্রচলিত আইনে তা শাস্তিযোগ্য।
একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারী রনি ও সালমান সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে রূঢ় ও অপমানজনক আচরণ করে আসছেন। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পরিবর্তে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত ‘মার্কা’ বাণিজ্য নিয়ে। সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ট্রাভেলস এজেন্সির মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বিশেষ ‘মার্কা’ সংগ্রহ করা যায়। পরে সেই চিহ্ন ফাইলের নির্দিষ্ট স্থানে উল্লেখ থাকলে দ্রুত ফাইল জমা নেওয়া হয়। এমনকি কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলেও ওই ‘মার্কা’ থাকলে ফাইল গ্রহণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিককে চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানকারী একটি সরকারি দপ্তরে এমন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাসপোর্ট অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এখন অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর সবার।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com