আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা ভূমি অফিসকে ঘিরে যেন থামছেই না বিতর্ক। সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, নামজারি, খারিজ ও ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবায় তারা চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই একের পর এক মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা। সম্প্রতি বর্তমান এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। ঠিক সেই সময়ই কয়েকজন কথিত দালাল সাংবাদিক মাঠে নেমে প্রচার শুরু করেন দালাল চক্রের চাপে অতিষ্ঠ স্বয়ং এসিল্যান্ড।
বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নানা প্রশ্ন। জনমনে এখন প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে একজন এসিল্যান্ডের দায়িত্বই হচ্ছে দালাল চক্র নির্মূল করা, সেখানে তিনি কীভাবে দালালদের চাপে অতিষ্ঠ হন? একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) চাইলে দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন, জবাবদিহির আওতায় আনতে পারেন, এমনকি জরিমানা বা কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও করতে পারেন। তাহলে উল্টোভাবে দালালে অতিষ্ঠ এসিল্যান্ড প্রচারের পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করছে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।
অভিযোগ উঠেছে, ভূমি অফিসকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট ও কতিপয় দালাল সাংবাদিক অফিসের পক্ষ নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বাস্তব চিত্র আড়াল করে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ ভূমি অফিসে প্রতিদিন শত শত মানুষ সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, দালাল, নির্ভরতা ও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ তুলছেন।সচেতন নাগরিক নরুল আনোয়ার ইমরান তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ভূমি অফিসগুলোর দুর্নীতির যেন কোনো শেষ নেই।
সংশ্লিষ্টরা চাইলে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে যে কাউকে যেকোনোভাবে আটকে দিতে পারেন। আনোয়ারা ভূমি অফিসগুলোর দুর্নীতির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। সম্প্রতি আনোয়ারার কয়েকজন সংবাদকর্মী বিষয়টি সামনে আনলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেকায়দায় পড়েন। তিনি আরও লিখেন, অপরদিকে আবার কর্মকর্তার পক্ষে আনোয়ারায় বদলে যাচ্ছে ভূমি সেবার চিত্র, দালালমুক্ত অফিস শিরোনামে সংবাদও দেখলাম। সংবাদকর্মীদের ব্যক্তি বিশেষের নয়, আনোয়ারাপ্রেমী হওয়া দরকার। বিশেষ করে আনোয়ারার সংবাদকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অন্যথায় সুফল আসবে না। বিগত দিনে প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা ও আমলা সংবাদকর্মীদের ম্যানেজ করে চলে গেছেন। অথচ তাদের অপকর্মে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনোয়ারাবাসী। এ বিষয়ে আনোয়ারা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন প্রকৃত সংবাদকর্মী তথ্য সংগ্রহ ও জনগণের সমস্যা তুলে ধরতে ভূমি অফিসে যাবেন। কিন্তু কোনো ব্যক্তির পক্ষে তদবির করতে, এসিল্যান্ডকে তোষামোদ করতে বা দালালি করতে যাওয়া সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে যায় না। তারা আরও বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ে যারা দালালি ও তদবিরে জড়িত, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। একই সঙ্গে ভূমি অফিসের সকল অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনগণের ভোগান্তির চিত্র সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরতে কলমসৈনিকদের এগিয়ে আসতে হবে।
বর্তমানে আনোয়ারা ভূমি অফিস ঘিরে জনমনে যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। সেবাগ্রহীতাদের দাবি, ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় কমিশনার অথবা জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com