
গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে একই পদে কর্মরত থেকে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে বারবার উঠে আসছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল) শাখার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হকের নাম।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন রাজধানীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা। এর মাধ্যমে নিম্নমানের নির্মাণকাজ, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করা হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হলেও গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন গণপূর্তের ই/এম বিভাগের সাবেক কর্মচারী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২১ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পরও তিনি নিয়মিত অফিস করছেন এবং কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, ১৯৮১ সালে মুদ্রাক্ষরিক পদে চাকরিতে যোগদান করেন জসিম উদ্দিন। দীর্ঘ ৪০ বছরের চাকরি শেষে উচ্চমান সহকারী পদে কর্মরত অবস্থায় ২০২১ সালে অবসরে যান তিনি। তবে অবসরের পরও ই/এম বিভাগে তার সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র বলছে, ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি ই/এম বিভাগে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রতি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকায়ও তাকে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী, অবসরের পর কোনো ধরনের নিয়োগ বা চুক্তি ছাড়া দীর্ঘদিন অফিসে দায়িত্ব পালন সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। এ ধরনের ঘটনা প্রশাসনিক অনিয়মের নজিরবিহীন উদাহরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন বলেন, “সময় কাটানোর জন্য অফিসে যাই।” তবে অফিসের দাপ্তরিক কাজে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন। তার ভাষ্য, “স্যাররা আমাকে ডাকে।”
অভিযোগ রয়েছে, ই/এম বিভাগের বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়া, প্রকল্পের ব্যয় কাঠামো নির্ধারণ, দরপত্র ব্যবস্থাপনা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে জসিম উদ্দিনের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঠিকাদারদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনিয়ম বাস্তবায়নে তিনি ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাজ করছেন। এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হকের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আশরাফুল হক ও তার স্টাফ অফিসার মো. তরিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দেশে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত বিভাগ তার অন্যতম। শুধু বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এ ধরনের অভিযোগের সমাধান সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের যেকোনো স্তরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। তবে বাস্তবে সেই কার্যক্রম দৃশ্যমান নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com