
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে ছয়জন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জমি দখল ও খতিয়ানভুক্ত করার পর সেখানে বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। পাশাপাশি ভূমি ও সেটেলমেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
পাউবো সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রায়পুর পৌরসভার মহিলা কলেজ সংলগ্ন মধুপুর মৌজায় প্রায় ৩০ বছর আগে এলএ নথি নম্বর ৩০/১৯৯৫-৯৬ অনুযায়ী পাউবোর ৪৫ শতাংশ জমি লীজ নেন স্থানীয় প্রভাবশালী আলী আজম চৌধুরী ও আশ্বাদ মিয়া। জমিটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের রোয়েদাদ ক্রমিক নং-১ এর ২৬৬ দাগভুক্ত অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ওই দুই ব্যক্তি গোপনে সরকারি জমিটি স্থানীয় ব্যবসায়ী হাফিজ উল্লাহ, মোহাম্মদ উল্লাহ ও আমিন উল্লাহর কাছে বিক্রি করেন। পরে তারাও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রবাসীদের কাছে জমি হস্তান্তর করেন। বর্তমানে ওই জমিতে বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় রায়পুর শহরের হানিমুন টেইলার্সের মালিক বাচ্চু মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সেটেলমেন্ট ও ভূমি বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় সরকারি জমি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের নামে খতিয়ানভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘদিন পর বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরে আসে। এরপর প্রায় তিন মাস আগে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে পাউবো কর্তৃপক্ষ। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত দখলদার ও হানিমুন টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়া বলেন, “পাউবোর ওই জমি আমরা স্থানীয় আলী আজম ও আশ্বাদ মিয়ার কাছ থেকে কিনেছি। বর্তমানে সেখানে ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। এটি আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি।”
রায়পুর সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার হুমায়ুন কবির গাজী জানান, বর্তমানে তিনি নোয়াখালী অফিসে কর্মরত থাকায় বিষয়টি বিস্তারিত বলতে পারছেন না। তবে মধুপুর মৌজার ওই জমি কীভাবে ছয় ব্যক্তির নামে রেকর্ড হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৬-৯৭ সাল পর্যন্ত জরিপ কার্যক্রম চলমান ছিল এবং সে সময়কার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খান বলেন, “রায়পুর পৌরসভার মধুপুর মৌজায় মহিলা কলেজ সংলগ্ন পাউবোর ৪৫ শতাংশ জমি লীজ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে ভূমি ও সেটেলমেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তবে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com