বরিশাল নগরের সিঅ্যান্ডবি সড়কে নির্মিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা বেগম পার্ক’ অবশেষে অপসারণ শুরু করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। ঢাকা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের অংশ এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ পার্কটি নির্মাণ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে পার্ক নির্মাণে নয় কোটি টাকা ব্যয়ের ঘটনায় অর্থ অপচয় ও অনিয়মের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।
১৩ মে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের উপস্থিতিতে নগরীর চৌমাথা এলাকার লেকসংলগ্ন পার্কটির অবশিষ্ট অংশ অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ও পরদিন বিক্ষুব্ধ জনতা পার্কটির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করেছিল। পরে সিটি করপোরেশন ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মধ্যে সমন্বয় শেষে অবশিষ্ট অংশ সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের প্রায় ১১ কিলোমিটার অংশ বরিশাল নগরের মধ্য দিয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই প্রকল্পের আওতায় থাকা সড়কের অংশে পার্ক নির্মাণ করায় সেটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, ২০২২ সালে সওজের আওতাধীন একটি বাইলেন এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে প্রায় নয় কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটি নির্মাণ করা হয়। সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ তার মায়ের নামে পার্কটির নামকরণ করেন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা বেগম পার্ক’। ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর পার্কটির উদ্বোধন করা হয়েছিল।
সওজ কর্মকর্তাদের দাবি, পার্ক নির্মাণের জন্য মহাসড়কের পাশের ২৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয় এবং সড়কের বিভাজক ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া বাইলেনের ওপর পার্কের অংশ নির্মাণের কারণে ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকারি কলেজের জমিও দখল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজের ক্ষেত্রে সওজ কিংবা ট্রাফিক বিভাগের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, পার্ক নির্মাণের পর চৌমাথা এলাকায় যান চলাচলে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়। প্রশস্ত সড়ক হঠাৎ সরু হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। শুরু থেকেই নগরবাসী ও সুশীল সমাজ পার্ক নির্মাণের বিরোধিতা করলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকরা আদালতে গেলে পার্ক নির্মাণে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশও উপেক্ষা করে দ্রুত কাজ শেষ করে পার্কটির উদ্বোধন করা হয়।
সিটি করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নগরবাসীর টাকায় নির্মিত এই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে পার্ক অপসারণের দাবি আরও জোরালো হয় এবং পরবর্তীতে প্রশাসকের কাছে আবেদন জানানো হলে অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, “মহাসড়ক ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে পার্ক নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল এবং দুর্ঘটনাও বাড়ছিল। সবদিক বিবেচনায় পার্ক অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের অর্থ ব্যয় করে পার্ক নির্মাণের নামে অনিয়ম ও অর্থ অপচয় হয়েছে। এই ব্যয়ের হিসাব চেয়ে আদালতে মামলা করা হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অবৈধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আর না ঘটে, সে বিষয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে।”
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com