
রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে অনিয়ম, দুর্নীতি ও যাত্রী হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিনা টিকিটের যাত্রীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি সাধারণ যাত্রীরাও পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগ দেখা গেলেও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন ও সিআই সালাউদ্দিনের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্রভাবের কারণে স্টেশনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
স্টেশনের ২ নম্বর গেটে রেলওয়ের পরিচয়পত্র বা ফিতা গলায় ঝুলিয়ে সাদা পোশাকে কয়েকজন কর্মচারীকে নিয়মিত অবস্থান করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে পয়েন্টম্যান জাহাঙ্গীর, কাশেম, রুবেল এবং পোর্টার লিটন ও সাদ্দামের নাম উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া নামফলকবিহীন কয়েকজন সদস্য ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কিছু সদস্যও এ কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ট্রেন থেকে নামা যাত্রীদের টিকিট তল্লাশির সময় কারও কাছে টিকিট না পেলে আইন অনুযায়ী জরিমানা বা মামলা না করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। অনেককে আলাদা স্থানে নিয়ে গিয়ে জেল বা মামলার আশঙ্কা দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগও পাওয়া গেছে। আদায় করা অর্থের কোনো রসিদ দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ যাত্রীদের দাবি, টিকিট পরীক্ষক (টিটি ও টিসি) এবং আরএনবি সদস্যদের একাংশের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চলছে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং অবৈধ অর্থের একটি অংশ ঊর্ধ্বতন পর্যায়েও পৌঁছে যায় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
একজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রেলপথ সাধারণ মানুষের সবচেয়ে সাশ্রয়ী যাতায়াত মাধ্যম। কিন্তু এখানে এসে সেবার পরিবর্তে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সব জেনেও নীরব থাকছেন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতে এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে যাত্রীসেবার মান আরও ভেঙে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে সাধারণ যাত্রীদের দাবি, স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন, সিআই সালাউদ্দিনসহ অভিযোগে অভিযুক্ত সকলের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায় সরকারি রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি রেলওয়ের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com