
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৪/২ (মহাখালী) অফিসে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন ইমারত পরিদর্শক মো. সোহাগ মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী দালালচক্র, যার মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ লেনদেন হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, একসময় ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান বদলে ফেলেছেন সোহাগ মিয়া। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে রাজউকের ওই জোনে একক প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মহাখালী ও আশপাশের এলাকায় নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা শেষ পর্যন্ত আর কার্যকর হয় না। স্থানীয়দের দাবি, আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমেই এসব ভবনের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ থেমে যায়।
এলাকার কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট হারে কমিশন ছাড়া কোনো ফাইল অনুমোদনের জন্য এগোয় না। ভবন নির্মাণের অনুমতি কিংবা বিভিন্ন ছাড়পত্র নিতে গিয়ে সাধারণ গ্রাহকদেরও চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সোহাগ মিয়া ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেট বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ দাবি করে। অনেক ক্ষেত্রে “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করতে হবে” বলে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়। দাবিকৃত অর্থ না দিলে ভবনের ত্রুটি দেখিয়ে কাজ বন্ধের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।
রাজউকের অভ্যন্তরেও এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বদলি বা বিভাগীয় ব্যবস্থার ভয় দেখানো হয়।
এমন পরিস্থিতিতে সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com